স্পাগ্রিন(https://spagreen.net) কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম ২০১৯ সালের জুলাই মাসে। এন্ড্রয়েট এপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট এ এন্ট্রি-লেভেল পজিশনের জন্য আবেদন করেছিলাম বিডি জবস থেকে। এই ব্লগে আপনাদের জানাবো বিস্তারিত।

ভুমিকাঃ

গ্রাজুয়েশন শেষ হওয়ার অনেক বাকি। কিন্তু মাথায় ভুত চাপায় চাকরির আবেদন শুরু করি। স্পাগ্রিন কোম্পানিতে ইন্টারভিউ ছিল, বিডিজবস থেকে কল পাওয়া প্রথম ইন্টারভিউ।

প্রথমে স্পাগ্রিন থেকে কেউ একজন কল করে কনফার্ম হলেন। তার পর বিডিজবস থেকে মেসেজ পেলাম। সম্ভবত মেইল ও পেলাম। সুপার এক্সাইটেড হয়ে স্পাগ্রিন নিয়ে ওয়েব রিসার্চ শুরু করলাম।

রিসার্চ করে দেখলাম, এটা একটা ছোট্ট ফার্ম। সম্ভবত এনভাটো-বেইজ কাজ করে থাকেন। গুগোল ম্যাপ এ লোকেশন দেখে নিলাম। এর আগে ১দিন ৩০০ ফিট গিয়েছিলাম তাই চিনতে অসুভিদা হলো না।

স্পাগ্রিন কোম্পানিতে ইন্টারভিউ ছিল শুক্রবার ১৯ তারিখ। শুক্রবার ভার্সিটি বন্ধ থাকায় ইন্টারভিউ দিতে সমস্যা ছিল না। আগের রাতে সিভি প্রিন্ট করে একটা ফাইলে রেখে ঘুমাতে গেলাম। আর লোকেশন নিয়ে ১-২ জনের সাথে কথাও বলে রাখলাম।

স্পাগ্রিন কোম্পানিতে ইন্টারভিউ অভিজ্ঞতাঃ

শুক্রবার সকালে উঠে ফ্রেস হয়ে, কিছু খেয়ে বাস ধরে খিলখেত নামলাম। সেখান থেকে রিক্সাতে গেলাম ৩০০ ফিট এর কাছে। স্পাগ্রিন কোম্পানির সেই নাম্বার থেকে যাওয়ার আগে আবার কল দিলে, আমি রাস্তায় জানিয়ে দিলাম।

স্পটে গিয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। অনেক ঘুরা-ঘুরি করে, ফোন কলের সাহাযে খুজে বের করলাম। অফিস একটা বাড়ির টপ ফ্লোরে যে কারনে খুজে পেতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। ৭ম তলায় উঠতে উঠতে সামান্য ভয়ও হচ্ছিল।

ওয়েটিং রুমে বসলাম। আমার সাথে আরও একজন ইন্টারভিউই যুক্ত হলো। হালকা কথা বার্তা বললাম উনার সাথে। আমার কোর্স শেষ হইনি বলায় উনি শেষ করার উৎসাহ দিলেন। কিছুক্ষন পর আমাকে ভিতরে নিয়ে যাওয়া হলো।

বোর্ডে অভিজ্ঞতাঃ

ইন্টারভিউ বোর্ড এ যার সাথে কথা হচ্ছিল উনি আমাকে ফোন করেছিল। উনি মুলত স্পাগ্রিন এর সিইও, যেটা পরে জেনেছিলাম। যাই হোক সিভি সামনে এগিয়ে দিয়ে, অনুমতি নিয়ে বসলাম।

নরমালি কথা-বার্তা শুরু হলো। মুলত আমার সিভির বিভিন্ন ব্যাপারে কথা বলছিল। উনার সাথে একটু পর আরও একজন ইন্টারভিউয়ার যুক্ত হল। সম্ভবত উনি মোবাইল এপ ডিপার্টমেন্ট এর কর্মী।

কোম্পানির অভারভিউ দেয়ার পর মুল প্রশ্ন-উত্তর পর্ব শুরু হলো। যেখানে আমার কাছে বেশিরভাগ প্রশ্ন কমন মনে হলো। উনি বার বার কম্পিউটার মনিটরের দিকে তাকাচ্ছিলেন, তাই মনে হচ্ছিল গুগোল থেকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।

আমি নিজেই যেহেতু নরমালি প্রচুর ইন্টারভিউ নিয়ে থাকি তাই আমার মধ্য কোন ভীত কাজ করছিল না। বা জব না হলে বিপদ হবে এমনও মনে হয় নি।

শেষের দিকে আমরা এপিআই নিয়ে কথা বলছিলাম। বলাই বাহুল্য, এপিআই তে আমার অভিজ্ঞতা ছিল না তখন। যতটুকু বিল্ড-ইন এপিয়াই নিয়ে কাজ করেছি যেটা ব্যাখ্যা করলাম।

রেস্ট-এপিআই এর ডিসকাশনের সময়ে আমি জানতাম কিছুই পারি না। উনারা আমাকে লাইভ কোডিং করতে বললেন । আমি যেহেতু পারি না তাই আমি সেটা মানা করে দিলাম। কারন হিসাবে দেখালাম আমার সিভির ওভারভিউ।

আমার সিভির শুরুতে লেখা ছিল, আই এম নট এভিলএবল ফর কোডিং ইন্টারভিউ। এভাবে সরাসরি মানা করায় অন্য ইন্টারভিউই অনেকটা রেগে গেলেন মনে হচ্ছিল। আর সিইও সাহেব অসুন্তস্ট হলেন। শেষ দিকে সিইও স্যার আমাকে এপিআই নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিলেন।

ফলাফল এবং অভজার্ভেশনঃ

স্পাগ্রিন থেকে হার্ড রিজেক্ট আসে। চাকরি হয় নি সেখানে।

উনাদের অফিস একেবারে নতুন ছিল। তবে সিইও ইন্টারভিউ এর সময়ে খুব সাপোর্টিভ ছিলেন। উনারা কর্মী নেয়ার জন্যই ইন্টারভিউ তে ডাকেন বলেই মনে হলো। যেমন আমাকে বলছিল আমি কি ডেটা ফেইচ করতে পারব কি না?

ইন্টেরিওর তেমন হাই-ফাই না হলেও নতুন অফিস হিসাবে যথেষ্ট ভালো ছিল। আমাকে চা এর অফার করেছিল এ রকম বাজে ব্যাবহার এর পরেও।

রিজেকশন এর কারনঃ

মুলত এপিআই নিয়ে কাজ না করতে পারার কারনে স্পাগ্রিন কোম্পানিতে ইন্টারভিউ থেকে বাদ পরতে হয়। এর সাথে সাথে, লাইভ কোড করতে রাজি না হওয়া কারন হতে পারে।

ব্যাক্তিগত ভাবে মনে হয়, আপনি যদি বেসিক রিকোয়ার্মেন্ট ফুল-ফিল করতে পারেন তাহলে স্পাগ্রিন কোম্পানিতে ইন্টারভিউ পার হতে সক্ষম হবেন। এখানে বায়াস্ট কোন কিছু হয় না বলেই মনে হয়। এনভাটো-কেন্দ্রীক প্রজেক্ট করায় তাই কোডিং স্ট্যান্ডার্ড মেইন্টেইন করতে হবে।

গালিব নোটস এর ইন্টারভিউ সেকশনের ব্লগ গুলো মুলত আমার নিজের এক্সপেরিয়েন্স করা জব ইন্টারভিউ নিয়ে। এখানে আমি আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার যেটা থেকে বিভিন্ন কোম্পানি এর ইন্টারভিউ নিয়ে অনেকে জানতে পারবে।

0Shares
Asadullah

Asadullah

মোঃ আসাদুল্লাহ গালিব, পেশায় একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার এর শিক্ষার্থী আর নেশায় একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী। কম্পিউটার বিজ্ঞান এর অন্যতম ইমার্জিং এড়িয়া মেশিন লার্নিং, ড্ডিপ লার্নিং, বায়ো-ইনফরমেটিক্স নিয়ে কাজ করে থাকেন। এর বাইরে কম্পিউটার বিজ্ঞান, ক্যারিয়ার, ফ্রিল্যান্সিং এবং টেক উদ্যোগ নিয়ে লিখে থাকেন। তিনি নিজেও অনেক গুলো টেক ব্যাবসা এর সাথে সরাসরি জড়িত। গালিব নোটস মুলত ব্যাক্তিগত ব্লগ। বিল-গেটস এর ব্যাক্তিগত ওয়েব সাইট গেটস-নোটস এর নাম অনুসারে গালিব নোটস ব্লগের নাম-করন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close