“আমি খুব বিপদে আছি! আমাকে একটা চাকরি দেন ভাই…” টাইটেল এর কথা গুলো আমাদের প্রায়ই শুনতে হয়। বিশেষ করে যারা রিসেন্ট চাকরি করছেন বা কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ে আছেন তারা এমন মেসেজ পেয়ে থাকে।

আমার ইউটিউব চ্যানেল, পেইজ, ভেঞ্চার্স এর সুবাদে আমি নিজেও এমন মেজেস পাই নিয়মিত। যারা মেসেজ দেন, তাদের অনেকে আক্ষরিক অর্থেই খুব বাজে অবস্থায় থেকে মেসেজ দেন। অনেকে যদিও হুদাই, সামান্য সিম্প্যাথি পাওয়ার জন্য এমন মেসেজ দিয়ে থাকে।

আজকের এই ব্লগটা তাদের জন্য, যারা এখনও এমন সিচুয়েশনে পরেন নাই। যারা এখন স্টুডেন্ট, হাতে কিছুটা সময় আছে তাদের জন্য! যারা জব করছেন, তারাও এই ব্লগ পড়তে পারেন কারন আপনার সামনে খারাপ সময় আসতে পার।

একটা চাকরি দেন! কেন এমন হয়?

আজকে আপনার বাজে অবস্থা হওয়ার পর আপনি চাকরির জন্য আবেদন করছেন। আর অবস্থার উপর নির্ভর করে আপনি একটা পজিশন ভিক্ষা করছেন। কিন্তু আপনি ভার্সির সময়ে আপনি কি করেছেন?

বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ঘুরাঘুরি করে সময় কাটিয়েছেন। ক্লাস বাং দিয়ে সিনেমা দেখেছেন। অন্ধের মত সময় অপচয় করেছেন।

চাকরি শুরু করার পর আপনি স্টাডি বন্ধ করে দিয়েছেন। নিজের অফিসে মিনিমাম সময় থেকে বের হয়ে গিয়েছেন। অফিস কে দিনের পর দিন ধোকা দিয়ে গেছেন।

এভাবে, একদিন আপনার চাকরি চলে গেছে, আপনি বিপদে পরেছেন। বা আপনার ডিগ্রি শেষ হয়ে গেছে আর আপনি বিপদে পরে গেছেন!

আপনার এই অবস্থার জন্য দায়ি কে?

আপনার আজকের বিপদের জন্য আপনি নিজেই দায়ি! আপনি অন্যদের দোষ দিয়ে সেলফ সেটিস্ফাইড হতেই পারেন, কোম্পানির বড় কর্তাদের নিয়ে যা খুশি বলতে পারেন। তাতে কিছুই যায় আসে না। কারন, আপনি নিজে এমন পরিস্থিতি বানিয়ে রেখেছেন।

যেই কোম্পানি আপনাকে খাওয়াচ্ছে, বেতন দিচ্ছে, তাদের কাজে আপনি ফাকি দিয়েছেন। দিনের পর দিন তাদের কে গার্বেজ কাজ উপহার দিয়েছেন। অথচ আপনার স্যালারি দিতে গিয়ে বড় কর্তাদের কত দিন নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে চিন্তাও করে দেখেন নি।

উল্লেখ্য, এঞ্জেল ইনভেস্টর হিসাবে আমি কয়েকটি ভেঞ্চার্সের সাথে কাজ করেছি। কিছু ভেঞ্চার্স এ আমি এখনও যুক্ত আছি। সে হিসাবে আমি জানি একজন উদ্যোক্তা, কোম্পানির ফাউন্ডিং সিইও কি পরিমান স্ট্রেস বেয়ার করে।

আপনার তো মন চাইলেই রিজাইন দিয়ে চলে যান। ঘুম না ভাংলে ফোন দিয়ে আসবেন না বলে দেন। কিন্তু আপনার যে সিইও, সে কি এটা পারেন? চিন্তা করে দেখেছেন?

চিন্তা তো করেন ই নাই, উলটা আপনার দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থেকেছেন। এর পর আস্তে আস্তে আপনি আজকের পরিস্থিতিতে উপনিত হয়েছেন। আর্জেন্ট চাকরি লাগবে। যে কোন চাকরি হলেই করব যখন বলছেন, তখন বুঝে নেন, এটা আপনি নিজেই বানিয়েছেন নিজের জন্য।

এখন আপনার কি করা উচিৎ?

আপনি যদি শিক্ষার্থী হন, অথবা চাকরি করেন তাহলে এখনই আপনার সতর্ক হওয়া উচিৎ। না হলে আপনার বিপদ আসতে পারে যে কোন সময়। কিন্তু করবেন টা কি?

আপনি যদি অলরেডি বিপদে পরে যান, আর আর্জেন্ট চাকরির দরকার হয় তাহলে আমার এই ব্লগটি পড়ে দেখতে পারেন। আশা করছি একটা ভালো গাইডলাইন পাবেন।

০১. সেভ মিনিমাম এট এনি-হাউ!

আপনি শিক্ষার্থী হন বা চাকরি করেন, আপনাকে সেভ করতে হবে। আপনার টিউশন ফিস থেকে কিছুটা বেশি টাকা নিয়ে যে আলগা খরচ করেন, সেটা সেভ করুন। আপনার টিউশন বেতন থেকে সেভ করুন। প্রতি দিন ৫-১০ টাকা হিসাবে জমালেও মাসে ৫০০-১০০০ টাকা সেভ করতে পারবেন।

প্রতিদিন ৫-১০ টাকা সেভ করাটা কিছুটা হাস্যকর মনে হতে পারে অনেকের কাছে। বিশেষ করে যারা একটু সচ্ছল ফ্যামিলির। কিন্তু এই ব্লগটা আমি লিখছি সবার চিন্তা করে।

যদি চাকরি করেন, একই পরামর্শ। সেভ করুন। রেইনি-ডে ফান্ডিং রাখুন। এটা করা সহজ নয় কিন্তু আপনাকে করতে হবে। এনি হাউ করতে হবে।

০২. বিল্ড এসেট বিফোর ইউ ফল ইন ট্রাবল

আপনি শিক্ষার্থী হন, উদ্যোক্তা হন বা চাকরি করেন সমস্যা নেই, এসেট বিল্ড করুন। আপনি শিক্ষার্থী হলে এমন কিছু করুন যেটা থেকে আপনার ক্যাশ ফ্লো জেনারেট হবে। শিক্ষার্থীদের ইনকামের অনেক রাস্তা আছে এখন।

এমন কিছু করুন যেটা আপনার ইনভল্ভ ছাড়াও কাজ করবে। সেটা হতে পারে ব্লগিং, হতে পারে স্পেশাল স্কিলস।

আমি তো পারি না, আমার তো আইডিয়া নাই! এই সব বলে বসে থাকবেন না। আপনি না পারলে শিখুন। ব্লগিং কিভাবে করে শিখুন, কিভাবে মার্কেটিং করে শিখুন।

কিভাবে শিখতে হয় সেটাও শিখুন। আপনাকে অভার-কাম করতে হবে। রাস্তা আপনাকে বের করতেই হবে। না হলে বিপদে আপনিই পড়বেন।

চাকরি করলেও একই কথা। চাকরির পাশা-পাশি কিছু করুন। ধীরে হোক, সময় লাগুগ করুন। অনেকে বলেন, চাকরি করে আর সময় কই? এভাবে এক্সকিউজ দিবেন না। এক্সকিউজ দিয়ে আপনি সাময়িক শান্তি পাবেন।

কিন্তু যেদিন আপনার চাকরি চলে যাবে? যেদিন আর্যেন্ট টাকা লাগবে, সহায়তা লাগবে? সেটার কথা চিন্তা করুন। সেটার প্রস্তুতি নিন।

অনেকে আছে চাকরির পাশা-পাশি অন্য কিছু করার নাম করে উলটা কাজ করে। অন্য দিকে ফোকাস বেশি দিয়ে চাকরিতে কম সময় দেয়। প্রডাকশন কম করে।

এটা করা উচিৎ না কারও। আপনাকে যারা চাকরি দিয়েছে, যারা বেতন দিচ্ছে, তাদের যে কি পরিমান স্ট্রেস নিতে হয়, চাপ নিতে হয় সেটা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। আর এথিক্যাল দিক চিন্তা করেও এমন করা উচিৎ নয়।

উদ্যোক্তা হলে এই চিন্তা আরও বেশি করা উচিৎ। কারন, যে কোন কিছু শুরু করলে আপস এন্ড ডাউন অনেক বেশি হয়ে থাকে। অনেকে ব্যাবসায়ের ভালো সময় আসলে, খারাপ সময় আসবে চিন্তাই করে না।

০৩. নেটওয়ার্কিং করুন

অনেকেই চাকরি শুরু করে বাকী সব ভুলে যায়। শিক্ষার্থীরা আবার ব্যাস্ত থাকে টুর, ডেইট নিয়ে। নেটওয়ার্কিং এর সময় কই?

কিন্তু নেটওয়ার্কিং হচ্ছে একটা এসেট। কারও সাথে পরিচতি থাকাটা কত বড় এডভান্টেজ এটা বিপদে পড়লে বুঝতে পারা যায়। অথচ ভালো সময়ে যদি একটু কেয়ারফুল থাকা যায়, কত সহজে এই এসেট বিল্ড করা যায়।

ইন্ডাস্ট্রির যারা উপরের দিক আছে, তাদের সাথে পরিচিত হন। এটা আপনার দায়িত্ব, তাদের দায়িত্ব না। আপনার নিজেকে চিনানো আপনার কাজ।

আমার ভার্সিটির সময়ে অনেকে এই কথা বলত। পাত্তা দেই নাই, কিন্তু পরে দেখেছি, এর গুরুত্ব কত বেশি। ফ্রিতে নেটওয়ার্কিং এর মত এসেট আর কোন কিছুতে নাই।

শেষ কথা

বিপদে যদি পড়েই যান, তাহলে বিচলিত না হয়ে ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে। সেই ব্যাপারে বিস্তারিত দেখতে পারেন এই ব্লগে। কিন্তু বিপদ আসার আগে সতর্ক হন।

কারও কাছে চাকরির নাম করে বেগিং করাটা আপনার জন্য যেমন অপমানের তেমনি যার কাছে চাকরি চাচ্ছেন তার জন্যও অপমানের। এটা একটু হিসাব করে চলতে হয়।

কথায় আছে, সময়ের এক ফোড় আর অসময়ের দশ ফোড়। এটা বুঝা যায় বিপদের সময়ে। শুধু মাত্র এইই ব্লগ ফলো করেই আপনি বিপদে পরার আগেই বিপদ এর জন্য প্রস্তুত হয়ে যতে পারেন। তাহলে আর আপনার বলতে হবে না, একটা চাকরি দেন!

0Shares
Asadullah

Asadullah

মোঃ আসাদুল্লাহ গালিব, পেশায় একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার এর শিক্ষার্থী আর নেশায় একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী। কম্পিউটার বিজ্ঞান এর অন্যতম ইমার্জিং এড়িয়া মেশিন লার্নিং, ড্ডিপ লার্নিং, বায়ো-ইনফরমেটিক্স নিয়ে কাজ করে থাকেন। এর বাইরে কম্পিউটার বিজ্ঞান, ক্যারিয়ার, ফ্রিল্যান্সিং এবং টেক উদ্যোগ নিয়ে লিখে থাকেন। তিনি নিজেও অনেক গুলো টেক ব্যাবসা এর সাথে সরাসরি জড়িত। গালিব নোটস মুলত ব্যাক্তিগত ব্লগ। বিল-গেটস এর ব্যাক্তিগত ওয়েব সাইট গেটস-নোটস এর নাম অনুসারে গালিব নোটস ব্লগের নাম-করন করা হয়েছে।

One thought on “আমি খুব বিপদে আছি! আমাকে একটা চাকরি দেন ভাই…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close