সিএসই তে যারা ইতিমধ্য ভর্তি হয়েছেন অথবা যাদের ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা আছে, তাদের অনেকে আমার কাছে জানতে চান অনেক কিছু! অনেকে নক দেন আমার পেইজ এ। কম্পিউটার সাইন্স এর ক্লাস শুরুর আগে কি কি শেখা উচিৎ বা কি করা উচিৎ?

যদি আপনি মনস্থির করেই ফেলেন যে, সিএসই তে পড়া লেখা করবেন, তাহলে প্রথমেই আপনাকে সিএসই এর এমিউজিং ওয়ার্ল্ড এ স্বাগতম।


ক্লাস শুরুর আগে, সবার প্রথম কাজ হচ্ছে, যে কোন একটি প্রোগ্রামিং ভাষা খুব ভালো করে শিখে ফেলবেন। সি প্রোগ্রামিং বা পাইথন দিয়ে শুরু করতে পারনে। যেহেতু, লোকালি এই ২টি ভাষা অনেক জনপ্রিয়। আর তাছাড়া পাইথন সিনটেক্স তুলনা মুলক সহজ অন্য ল্যাংগুয়েজ থেকে।

ক্লাস শুরুর আগে সামান্য প্রচেষ্টা অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে নিবে আপনাকে – গালিব নোটস

যে কোন ভাষা শেখার জন্য গুগোল-ইউটিউবে প্রচুর রিসোর্স আছে। এগুলা দেখে স্টেপ বাই স্টেপ শেখা শুরু করুন। বেসিক সিন্টেক্স দিয়ে শুরু করে শেষ পর্যন্ত শিখুন। একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ যদি সম্পুর্ন শিখতে পারেন, তাহলে ভার্সিটির পুরো লাইফে অনেক এডভান্টেজ পাবেন। ক্লাস শুরু করার পর দেখবেন অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে আছেন। আবার সিএস এর মুল কোর্স এ লেকচার সহজে বুঝতে পারবেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, একটি ল্যাংগুয়েজ কি সম্পুর্ন শেখা সম্ভব বা এই অল্প সময়ে বিস্তারিত শেখা সম্ভব? এখানে, সম্পুর্ন শেখা বলতে সেই ল্যাংগুয়েজ এ মাস্টার হতে হবে এমন না। ব্যাসিক সিন্টেক্স, লাইব্রেরি ফাইল, আইও, ওওপি কনসেপ্ট শিখুন। কিভাবে এপ্লাই করতে হয় সেটা জানুন। কিছু বেসিক প্রবলেম সলভ করার চেষ্টা করুন।

এখানে কিন্তু পাশ করার জন্য পড়ছেন না। এটা পড়ছেন শেখার জন্য। যত বেশী শিখবেন ততই ভালো হবে আপনার জন্য। তাই, সিএসই এর ক্লাস শুরুর আগে, একটি ল্যাংগুয়েজ শিখতে থাকুন যত সময় পারেন।

যে ৭ ধাপে একজন সিএসই শিক্ষার্থীর পতন ঘটে!

এর সাথে সাথে, ২নাম্বার এ চেষ্টা করবেন, এইচটিএমএল-সিএসএস শিখে ফেলার। যদি আপনি এইচটিএমএল শিখে ফেলেন তাহলে ওয়েব ওয়ার্ল্ড এর স্কেলিটন বুঝতে পারবেন। পরবর্তীতে যখন ভার্সিটি লাইফ এ বিভিন্ন প্রজেক্ট করতে যাবেন, বা কোন সাইট ব্রাউজ করবেন তখন তার পিছনের কাজ কিভাবে হয় সেটা বুঝতে পারবেন। আবার কোন ওয়েব এপ্লিকেশন ব্যাবহার করার সময় বুঝবেন কিভাবে কাজ হচ্ছে।

যদিও একেবারে সব কিছু বুঝবেন না, কিন্তু ফ্রন্ট এন্ড এ কিভাবে কাজ করছে সেটা বুঝতে পারবেন। আর ভার্সিটির প্রজেক্ট গুলোতে এই সাধারন নলেজ, অনেক অনেক এগিয়ে রাখবে আপনাকে।

এর পর যদি সময় থাকে, তাহলে গনিতে দক্ষতা অর্জন করুন। এর জন্য অনলাইন কোর্স গুলো দেখতে পারেন। এখন অনলাইন এ বিভিন্ন প্লাটফর্ম এ প্রচুর কোর্স আছে, যেগুলাতে অংশ নিয়ে নিজের ম্যাথ স্কিল উপরের লেভেল এ নিয়ে যেতে পারেন সহজেই। ম্যাথ ছাড়া সিএসই তে ভালো করা যায়- এ ধরনের পরামর্শ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবেন।

যে ১৪টি কারনে প্রোগ্রামার মেয়ের সাথে ডেট করা উচিৎ!

যদি সিএসই এর ক্লাস শুরুর আগে সব গুলো শিখতে নাও পারেন,এক বা একাধিক টপিক কাভার করতে পারেন, তাহলেও সেটা আপনাকে অনেক বেশী এগিয়ে রাখবে। প্রতিযোগিতার এই সময়ে এটা খুবই গুরত্বপুর্ন আমাদের জন্য।


সবশেষে একটি পরামর্শঃ আমরা যখন সিএসই তে ভর্তি হই বা হতে চাই, সিনিয়র রা অনেক সময় অনেক পরামর্শ দেন। তাদের মধ্য অনেকে নানান লিমিটেশন দেখায় আবার অনেকে তাদের নিজেদের লিমিটেশন ঢেকে রাখার জন্য অনেক পরামর্শ দেয়া থেকে বিরত থাকে। আবার যারা কোন ভাবে সিএসই গ্রাজুয়েট হয়ে বের হচ্ছেন, তারা কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই সঠিক পরামর্শ দিতে পারবে না।

যে কারনে কম্পিউটার সাইন্স এ ভর্তি হওয়া উচিৎ নয় – পার্ট১

তাই, যদি আপনি পরামর্শ নিতেই চান, এমন কারও কাছ থেকে পরামর্শ নিবেন যিনি আসলেই একচুয়াল ক্যাপাবল, ইন্ডাস্ট্রি বা একাডেমিক ওরিয়েন্টেড, যিনি সিএসই কে ভালোবাসে। যে কোন বিষয়ে পরামর্শ নেয়ার আগে আপনাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, “একটি ভালো পরামর্শ যেমন আপনাকে অনেক দুর এগিয়ে নিতে পারে, তেমনি একটি বাজে পরামর্শ অনেক নিচে নামিয়ে দিতে পারে।”

তাই সিএসই এর ব্যাপারে, যার তার থেকে পরামর্শ নিয়ে নিজের ক্ষতি করবেন না।  যে কোন সমস্যাতে আমাদের ইমেইল করতে পারেন অথবা ফেজবুকে নক দিতে পারেন।

0Shares
Asadullah

Asadullah

মোঃ আসাদুল্লাহ গালিব, পেশায় একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার এর শিক্ষার্থী আর নেশায় একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী। কম্পিউটার বিজ্ঞান এর অন্যতম ইমার্জিং এড়িয়া মেশিন লার্নিং, ড্ডিপ লার্নিং, বায়ো-ইনফরমেটিক্স নিয়ে কাজ করে থাকেন। এর বাইরে কম্পিউটার বিজ্ঞান, ক্যারিয়ার, ফ্রিল্যান্সিং এবং টেক উদ্যোগ নিয়ে লিখে থাকেন। তিনি নিজেও অনেক গুলো টেক ব্যাবসা এর সাথে সরাসরি জড়িত। গালিব নোটস মুলত ব্যাক্তিগত ব্লগ। বিল-গেটস এর ব্যাক্তিগত ওয়েব সাইট গেটস-নোটস এর নাম অনুসারে গালিব নোটস ব্লগের নাম-করন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close