অনেকে মনে করে, প্রোগ্রামার মেয়েরা গার্লফ্রেন্ড হিসাবে খুব বোরিং, সারা দিন রাত কোড নিয়ে বসে থাকে আর চিন্তা করতে থাকে। কিন্তু একজন প্রোগ্রামার মেয়ে গার্লফ্রেন্ড হিসাবে কতটা ভালো সেটা চিন্তাও করতে পারবেন না। ১৪টি কারন আমি এখানে তুলে এনেছি, যদিও এর বাইরে আরও অনেক কারন আছে প্রোগ্রামার গার্লফ্রেন্ড (date with a programmer girlfriend) এর সাথে ডেট করার! চলেন শুরু করা যাক তাহলে-

১। সি(She) উইল নট আস্ক ইউ ডাম্প কোয়েশ্চেন লাইক, আইপি এড্রেস কত?

শুধু কি আইপি এড্রেস, কিভাবে গান ডাউনলোড দিতে হয়? কিভাবে স্লাইড বানাতে হয়? মনিটর এর র‍্যাম কত? পিসি তে পাবজি খেলে ক্যামনে? এই টাইপ কোন কোয়েশ্চেন কোনদিন আস্ক করবে না।

র‍্যাদার, যখন আপনার বাগানের গাছে পানি দেয়ার দরকার হবে, প্রোগ্রামার গার্লফ্রেন্ড সেটা মুখে না বলে, পাইথন স্ক্রিপট লিখে পাঠাবে। বাজারের লিষ্ট মুখে না বলে, বট বানিয়ে দিবে, আর ডেটের সময় নির্ধারন করবে মেশিন লারনিং প্রেডিকশন এলগরিদম দিয়ে। গফ হিসাবে এমন মেয়ে কে তো চান! তাই না?

২। লাইফ উইল বি সিম্পল ইফ-এলস কন্ডিশনালঃ

গার্লফ্রেন্ড প্রোগ্রামার হলে, সব থেকে বড় সুবিধা মনে হয় এটাই পাবেন। লাইফ সিম্পল কন্ডিশনাল। if(con){you are here}! ইফ ইউ ডু, ইউ আর ইন ❤ ❤ ইফ নট(else), ফা** আপ। ইউ আর আউট, নো রিচেক, নো রিকনসিডারেশন। লজিক্যাল কিন্তু এক কথার পার্টনার পাবেন।

নন প্রোগ্রামারদের মত দুনিয়ার জিলাপির পেচ নাই! একবার ভুল করলে আগের সব ভুল টেনে আনা বা লজিক চেক করার সময় গিভেন লজিক এর বাইরে দুনিয়ার কিছুই মাথায় রাখবে না! কন্ডিশন এক বা একাধিক (পড়ুন নেস্টেড) হোক, কার্ভ এর মধ্যকার লজিকের বাইরে আর কোন লজিক চেক করবে না প্রোগ্রামার গার্লফ্রেন্ড!

৩। হ্যাকাথনে ডেটঃ

চাইলে এক সাথে হ্যাকাথনে যেতে পারবেন! ঝগড়া না হলে শেষও করতে পারবেন। তবে হ্যাকাথনে জিতলে ক্রেডিট পাবেন না কোন। নন কোডার হোক বা কোডার হোক, কেউ ই বফ কে উনিং এর ক্রেডিট দেয় না ভাইয়া! তবে, হ্যাকাথনের কারনে ডেট এর সমস্যা হবে না। বরং এটা সম্পর্ক আরও ভালো করবে। হ্যাকাথনে লুজ করলে, আপনি দায়ী হবেন। এখানে প্রোগ্রামিং লজিক খাটবে না।

৪। নিজের প্রডাক্ট, এপস বা স্টার্ট-আপ পার্টনারঃ

গার্লফ্রেন্ড প্রোগ্রামার হলে, নিজেদের আইডিয়াতে নিজেরাই কাজ শুরু করতে পারেন। ওয়ার্ল্ড চেঞ্জং কোন প্রডাক্ট, করোনা ভাইরাস ডিটেক্ট এর এপস বা স্টার্ট-আপ শুরু করতে পারেন প্রোগ্রামার গার্লফ্রেন্ড এর সাথে! সব থেকে ট্রাস্টেড পার্টনার হিসাবে কোডার গার্লফ্রেন্ড এর থেকে ভালো বিকল্প আর নেই। যদি কোম্পানি মিলিয়ন ডলারের হয়ে যায়, পার্টনার অর্ধেক নিয়ে সেটা আবার আপনার বাসায় ই খরচ করবে। ভাগা যায় এগ্লা!

৫। সি নো দ্যা নেসেসিটি অফ সেমিকোলনঃ

প্রোগ্রামার গার্লফ্রেন্ড হলে, সে খুভ ভালো করেই জানেন সেমিকোলন এর গুরুত্ব কতটুকু! যেটার সোজা অর্থ হচ্ছে, ইন ডিটেইল চিন্তা করবে। সম্পর্কের মাঝ রাস্তায় গিয়ে সে বলবে না, আমি তো রাজি না, বাবা জোর করে বিয়ে দিচ্ছেন! লোল- এটা সবাই বলে এখন! তবে কখনও ফা** আপ হবেন  না ছোট্ট কোন ইস্যু নিয়ে।


৬। সি উইল ডিবাগ হোয়েন নিডেডঃ

সাধারনত, একজন ভালো প্রোগ্রামার মানেই একজন ভালো ডিবাগার! সে হিসাবে, যদি কখনোও সমস্যাতে পড়েন, সে লেফট করবে না র‍্যাদার ডিবাগ করবে। সমস্যা কোথায় খুজে বের করে। স্বাধু সাবধান, একাধিক গফ থাকলে, ডিবাগ করে সেটাও কিন্তু খুজে বের করবে।

৭। জুকারবার্গ, বেল গ্রেডস বা জবস দের নিয়ে কথা বলা যাবেঃ

বিশ্বের টেক ইন্ডাস্ট্রি তো বটেই, সাধারন মানুষের লাইফ স্টাইল বদলে দেয়া মানুষ যারা তাদের নিয়ে কথা বলতে গেলে, নন প্রোগ্রামার গার্লফ্রেন্ড এর আগ্রহ পাবেন না কখনো।

কিন্তু একজন প্রোগ্রামার গার্লফ্রেন্ড এর সাথে এনাদের নিয়ে প্রচুর আলোচনা করতে পারবেন। ডেট (date with a programmer girlfriend) এ গিয়ে আলোচনার ফাকে ফাকে হয়ত জানতে পারবেন, আপনার গার্লফ্রেন্ড উনাদের কারও কোম্পানিতে চাকরীর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।  ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে হয়ত এমন দেখতে পারেন যে, প্রোগ্রামার গফ কাজ শুরু করেছেন, স্টিভ জবস এর কোম্পানি বিট করার লক্ষ্যে!

৮। আপনাদের কিড বানাতে পারে কিড ম্যানেজমেন্ট এপস ইন হিজ ১ইয়ার এইজঃ

যদি সামনে আগাতে পারেন, হয়ত দেখা যাবে, আপনাদের বাচ্চা কোডিং করে মোবাইল এপস বানিয়ে ফেলেছে, ১ বছর বয়সেই। ভাবা যায়, যখন অন্য বাচ্চারা কথা বলাই শিখে নাই, তখন আপনাদের বাচ্চা কোড লিখে এপস বানাচ্ছে!

মাম্মি প্রোগ্রামার বলে কথা!

৯। সি নো হোয়াট কামস ইনসাইড সি এন্ড ডিঃ

A B C C++  D E, সি এর পর ডি নয়, সি প্লাস প্লাস । প্রোগ্রামিং জোক্স আর সেক্সি এন্ড এট দ্যা সেইম টাইম হেল অলসো। এর কারন, প্রোগ্রামিং জোক্স সবাই বুঝে না। প্রোগ্রামার গার্লফ্রেন্ড হলে, বেশীর ভাগ সময় এসব জোক্স বুঝতে পারবে আর না বুঝলেও অন্তত ক্র্যাক করার চেষ্টা করবে। জোক্সস না বুঝলে অন্তত, এতিমের মত তাকিয়ে থাকবে না।

১০। প্রোগ্রামিং রিলেটেড মুভি দেখতে যেতে পারবেনঃ

গার্লফ্রেন্ড যদি কোডার হয়, ডেট এ যাওয়ার সাথে সাথে,  স্নিকার, দ্যা সোস্যাল নেটওয়ার্ক জাতীয় মুভিও দেখতে যেতে পারবেন। মুভি দেখা, ডেইট, লজিক্যাল কথা বার্তা সব এক সাথেই হয়ে যাবে। নন কোডার গফের সাথে এসব ছবি দেখতে গিয়ে ব্রেক-আপ হয়ে যাওয়ার চিত্র অহরহ কারন ওসব ছবিতে নাকি কোন রোমান্টিকতা নেই।


১১। ল্যাপটপ কোন সমস্যা হবে নাঃ

নন কোডার গার্লফ্রেন্ড যেখানে বলে, ল্যাপটপ বা আমি, একটা সিলেক্ট করতে হবে! সেখানে কোডার জিএফ ল্যাপটপ কে উলটা এপ্রিশিয়েট করবে। ডেট এর ফাকে ফাকে, জমানো কোডিং বা সমস্যা নিয়ে ডিসকাস করা যাবে।

১২। আলগা পেইন দিবে নাঃ

যখন নন প্রোগ্রামার গার্লফ্রেন্ড এর কাজ থাকে না, সে আপনার মাথা নষ্ট করে ফেলবে, শপিং এর কথা, আইফোন এর গল্প আর কিচ্ছু না পেলে, কত বছর আগে কবে তার সাথে রাফ ব্যাবহার করেছিলেন সেটা তো আছেই। কিন্তু প্রোগ্রামার গার্লফ্রেন্ড থাকলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। সাধারনট, কোডিং গার্লরা কোডিং, কন্টেষ্ট, ডিবাগিং নিয়ে ব্যাস্ত থাকে। তাই, সব রকম আজাইরা পেইন থেকে বিরত থাকে।

১৩। দে নো ইম্পর্টেন্স অফ ক্লিনিংঃ

যারা পাইথনে কোড লিখে তারা খুব ভালো করে জানে, ক্লিন কোড এর গুরত্ব কত। এর বাইরে, সব প্রফেশনাল কোডার ই ক্লিন কোড, ইন্ডেন্ট কোড লিখে থাকে। তারা ক্লিনিং এর গুরুত্ব বুঝে তাই হাউজ, ফিউচার কিডস, বেড রুম ক্লিন রাখবে এটা এক্সপেক্ট করতেই পারেন। বাই দ্যা ওয়ে, দে লাভ কিস (KISS stands for Keep it simple, stupid!)


১৪। কাজ শেষ করার কথা থাকলে শেষ করবেঃ

প্রোগ্রামার রা সাধারনত একটা সমস্যা শুরু করলে সেটা শেষ করে উঠেন। আমি নিজে দেখা গেছে কোড ফোর্স এ সলভ করার সময় একটা সমস্যা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকেছি। তাই, রিয়েল লাইফ এর কাজ গুলোতে টার্গেট কাজ শেষ থাকবে। তার সাথে কাজের ব্যাখ্যাও থাকবে। ভালো কোডার মানেই, ভালো কমেন্টর।

মেশিন লার্নিং নিয়ে কথা না বলা ফ্রেন্ডদের ইমিডিয়েটলি বদলে ফেলুন!

ওয়েল, অনেকেই ভাবতে পারেন, তাহলে তো লাইফ কোডিংময় হয়ে যাবে। বাস্তবতা হচ্ছে হবে নাহ! ইউজুয়ালি, যে সব যায়গা সমস্যা হয়, একজন প্রোগ্রামার গার্লফ্রেন্ড (date with a programmer girlfriend) থাকলে সে সব যায়গা সমস্যা হয় না। যেটা আর্টিকেল এ অলরেডি লেখা হয়ে গেছে। এর বাইরে বাকী লাইফ কিন্তু এমিউজিং। চাইলে, আপনি গ্রীস যেতে পারবেন, অথবা মালদীপ এর কোথাও। দেশেই যদি ঘুরতে চান যায়গার অভাব হবে না।

ফুটনোটঃ কম্পিউটার সাইন্স এ লেখা-পড়া করলেই কেউ প্রোগ্রামার হয়ে যায় না। এমন কি সিএসই ডিগ্রীধারী অনেক মেয়ে কে চিনি যারা এক লাইন কোড জানে না। তাদের সাথে এই আর্টিকেল এর তুলনা করবেন না। মুল আর্টিকেল storypick, hackernoon, makeuseof থেকে কালেক্ট করে সামান্য পরিমার্জন করা হয়েছে।

0Shares
Asadullah

Asadullah

মোঃ আসাদুল্লাহ গালিব, পেশায় একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার এর শিক্ষার্থী আর নেশায় একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী। কম্পিউটার বিজ্ঞান এর অন্যতম ইমার্জিং এড়িয়া মেশিন লার্নিং, ড্ডিপ লার্নিং, বায়ো-ইনফরমেটিক্স নিয়ে কাজ করে থাকেন। এর বাইরে কম্পিউটার বিজ্ঞান, ক্যারিয়ার, ফ্রিল্যান্সিং এবং টেক উদ্যোগ নিয়ে লিখে থাকেন। তিনি নিজেও অনেক গুলো টেক ব্যাবসা এর সাথে সরাসরি জড়িত। গালিব নোটস মুলত ব্যাক্তিগত ব্লগ। বিল-গেটস এর ব্যাক্তিগত ওয়েব সাইট গেটস-নোটস এর নাম অনুসারে গালিব নোটস ব্লগের নাম-করন করা হয়েছে।

10 thoughts on “যে ১৪টি কারনে প্রোগ্রামার মেয়ের সাথে ডেট করা উচিৎ! ~ ৮নং দেখে হাসবেন না কিন্তু!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close