জাভেদ চৌধুরি ভাই এবং আমি এক্সপিডস্টুডিওতে চাকরি করেছি লম্বা সময়ে। Zaved Chowdhury ভাই এখনও Roxnor (XpeedStudio পরবর্তিতে রিব্র্যান্ড করে Roxnor করেছেন) এ Digital Marketing Specialist হিসেবে কাজ করছেন। যদিও আমি, সময়ের পরিক্রমায়, স্ট্র্যাটেজিক কারনে, ডেভেলপমেন্টে রোল-ব্যাক করেছি।
চাকরি সুত্রে জাভেদ ভাই এর সাথে পরিচয়! সেখান থেকেই, গালিব নোটস এর পাঠকদের জন্য তুলে এনেছি, এই সাক্ষাৎকার।
জাভেদ ভাই রিসেন্টলি তার ৫+ এর অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন EPaathshalaBD প্লাটফর্মে। আপনি যদি ফেজবুক মার্কেটিং গভীর ভাবে বুঝতে ও শিখতে চান, সহজ ভাবে, তাহলে এই লিংলকে বিস্তারিত দেখতে পারেন।
শুরুতেই জানতে চাই, কেমন আছেন আপনি? আর বর্তমানে জীবন কেমন যাচ্ছে?
আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। জীবন এখন একটু ব্যস্ত, তবে সুন্দর ব্যস্ততা। আগের মতো শুধু “কাজ শেষ করা” নয়, এখন আমি চেষ্টা করি প্রতিদিন কিছু শেখার, কিছু শেয়ার করার। জীবনের এই ফেইজটা আমার কাছে খুব রিয়াল মনে হয়। চ্যালেঞ্জ আছে, চাপ আছে, আবার আনন্দও আছে।
আপনার সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলুন?
আমি Zaved Chowdhury, একজন Digital Marketing Specialist। মূলত SaaS এবং WordPress-based প্রোডাক্ট মার্কেটিং নিয়ে কাজ করি। প্রোডাক্ট লঞ্চ, ক্যাম্পেইন স্ট্র্যাটেজি, কনটেন্ট, ইমেইল, পেইড অ্যাড—সবকিছু মিলিয়ে আমার কাজটা হলো বিজনেস গ্রোথে মার্কেটিংকে সরাসরি যুক্ত করা।
দিনের কাজের শিডিউল এবং সেগুলো এক্সিকিউশন করেন কিভাবে?
আমি সাধারণত দিন শুরু করি প্ল্যান দিয়ে। সকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো (high-impact tasks) আগে করি। বড় কাজগুলো ছোট ছোট টাস্কে ভেঙে নেই, যাতে এক্সিকিউশন সহজ হয়।
জাভেদ ভাই, আপনি Roxnor এ আছেন লম্বা সময়! আপনার টিমে অনেক নতুন জয়েন করছেন আবার অনেকে চলেও গেছেন। চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে মুল বাধা কি মনে করেন?
আমার মতে চাকরি না পাওয়ার মূল কারণ মূলত দুইটা—
১. স্কিল আছে, কিন্তু প্র্যাকটিক্যাল ইমপ্লিমেন্টেশন নেই: অনেকে টুল, ফিচার বা থিওরি জানে, কিন্তু রিয়েল লাইফে সেটা কিভাবে ব্যবহার করতে হয়, কোন সমস্যায় কোন সলিউশন অ্যাপ্লাই করতে হয়—এই ক্লিয়ারিটি থাকে না। লাইভ প্রজেক্ট বা বাস্তব সিনারিওতে গিয়ে তখন আটকে যায়।
২. নিজেকে ঠিকভাবে প্রেজেন্ট করতে না পারা: স্কিল থাকলেও যদি সেটা ভালোভাবে এক্সপ্রেস করতে না পারেন, তাহলে ইম্প্যাক্ট পড়ে না। স্মার্টলি মার্কেটিং জার্গন, সঠিক টার্ম ও উদাহরণ ব্যবহার করলে ক্যান্ডিডেটের ইমপ্রেশন অনেক ভালো হয় 😄
মার্কেটারদের সাথে ডেভেলপারদের এবং ডিজাইনারদের কেমন সম্পর্ক থাকা উচিৎ বা আপনারা কিভাবে কমিউনিকেশন করে থাকেন ?
এই তিনটা টিম একে অপরের শত্রু না এরা আসলে একই টিমের তিনটা ব্রেইন। এরা একসাথে কাজ করলে একে অপরের শক্তিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
মার্কেটাররা বাজার, কাস্টমার আর বিজনেস গোল বুঝে। ডেভেলপাররা সেই আইডিয়াকে টেকনিক্যালভাবে বাস্তব করে। ডিজাইনাররা পুরো জিনিসটাকে ইউজার ফ্রেন্ডলি এবং আকর্ষণীয় করে তোলে।
এই তিনটার যেকোনো একটাতে ঘাটতি হলে আউটপুট দুর্বল হয়ে যায়। তাই এখানে ইগো বা আলাদা আলাদা দ্বীপ হয়ে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।
আমরা Roxnor এ এই জায়গাটাতে খুব ওপেন কমিউনিকেশন ফলো করি। মার্কেটার হিসেবে আমি কখনো ডেভেলপার বা ডিজাইনারকে শুধু টাস্ক দিয়ে দিই না। আমি আগে কনটেক্সট দিই, বিজনেস গোল ব্যাখ্যা করি, ইউজার কেন এটা চায় সেটা বলি। এতে করে সবাই একই পেজে থাকে এবং কাজের কোয়ালিটি অনেক বেড়ে যায়।
আপনার মতে, ইউনিভার্সিটি এবং জব লাইফ এর মধ্য পার্থক্য কি?
আমার মতে ইউনিভার্সিটি লাইফ আর জব লাইফ দুটো একেবারেই আলাদা জীবন।
ইউনিভার্সিটি লাইফ হলো নিজেকে এক্সপ্লোর করার সময়—নিজের ইন্টারেস্ট বোঝা, কী ভালো লাগে সেটা খুঁজে বের করা। আর এই সময়েই নিজের প্যাশনটা আইডেন্টিফাই করে সেটার উপর ক্যারিয়ার সেট করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক সময়ে আপনি নতুনদের শেখাতে শুরু করেছেন। ফুল টাইম চাকরির পাশাপাশি কিভাবে ম্যানেজ করছেন?

কোর্স করার সময় আমি প্রতিদিন গড়ে ২–৩ ঘণ্টা নিয়মিত সময় দেওয়ার চেষ্টা করি। বারবার এডিট বা রিপিট করতে না হয়। এই লক্ষ্যেই শুরু থেকেই বিষয়গুলো একটানে ভালোভাবে বোঝার ওপর জোর দিই। এতে সময় বাঁচে, ফোকাস থাকে, আর শেখার প্রসেসটাও আরও কার্যকর হয়। এভাবেই আমি আমার শেখার সময়টা স্মার্টলি ম্যানেজ করি।
কোথায় থেকে আপনি প্রতিদিন কাজ করার উৎসাহ পান? (নিজেকে মোটিভেটেড রাখেন কীভাবে?)
সত্যি বলতে, প্রতিদিন সবসময় মোটিভেশন থাকে না। এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি মোটিভেশনের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করি না। বরং আমি একটি নির্দিষ্ট রুটিন ফলো করি, যেখানে মোটিভেশন থাকুক বা না থাকুক, কাজটা করি।
আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, অনেক সময় কাজ শুরু করলেই ধীরে ধীরে মোটিভেশন ফিরে আসে। অ্যাকশনই আসলে মোটিভেশন তৈরি করে। তাই অপেক্ষা না করে নিয়মিত কাজ করার মাধ্যমেই আমি নিজেকে ট্র্যাকে রাখি।
আপনার জীবনের টাইম সেভিং শর্টকাট অথবা লাইফ হ্যাক কি?
সত্যি কথা বলতে, আমার জীবনে তেমন কোনো ম্যাজিক টাইম-সেভিং শর্টকাট নেই। থাকলে সবার আগে আমি নিজেই সেটা ব্যবহার করতাম 😛 বেশিরভাগ সময়ে “লাইফ হ্যাক” আসলে কনসিসটেন্সি, ডিসিপ্লিন আর সঠিক প্রায়োরিটি সেট করার নামই আরেকটা ভার্সন।
তবুও যদি কারও কাছে সত্যিকারের কোনো কাজের টাইম-সেভিং হ্যাক জানা থাকে—আমি কিন্তু মন দিয়ে শুনতে রাজি 😄
নিজেকে আপনি অন্যদের থেকে কীভাবে আলাদা করবেন?
অনেকে শুধু কথা বলে, আমি quietly কাজ করতে পছন্দ করি। কম বলি, কিন্তু যেটা বলি সেটা deliver করার চেষ্টা করি।
ডিজিটাল মার্কেটিং এ আপনি ফলো করেন এমন কারও নাম?
ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে আমি Umar Tazkeer–এর ভিডিও সবচেয়ে বেশি দেখি। তার কনটেন্টগুলো বেশ প্র্যাকটিক্যাল এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে হওয়ায় সেগুলো থেকে অনেক ভ্যালু পাই।
তবে শুধু একজনের ওপর নির্ভর করি না। টপিক অনুযায়ী বিভিন্ন মানুষের ভিডিও, আর্টিকেল ও কনটেন্ট নিয়মিত দেখি, যাতে ভিন্ন ভিন্ন পার্সপেক্টিভ থেকে শেখা যায় এবং আপডেট থাকা যায়।
ইউনিভার্সিটি এর পড়া শেষ কিন্তু কোন স্কিলস নেই, তাদের জন্য কি পড়ামর্শ দিবেন?
আমি তাদের বলব, প্রথমেই একটা স্পষ্ট টার্গেট ঠিক করতে। হোক সেটা প্রাইভেট জব, গভর্নমেন্ট জব অথবা হায়ার স্টাডিজ। টার্গেট ছাড়া স্কিল শেখা অনেক সময় এলোমেলো হয়ে যায় এবং কাজে আসে না।
টার্গেট ফিক্স করার পর সেই লক্ষ্য অনুযায়ী যে স্কিলগুলো সত্যিই দরকার, সেগুলো ধাপে ধাপে গ্যাদার করা জরুরি। একসাথে সবকিছু শেখার চেষ্টা না করে, প্রয়োজনভিত্তিক স্কিলের ওপর ফোকাস করলে শেখাটাও কার্যকর হয় এবং ভবিষ্যতে সেটার রিটার্নও পাওয়া যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দেরি না করে শুরু করা। স্কিল না থাকাটা সমস্যা নয়, কিন্তু শুরু না করাটাই আসল সমস্যা।
আমাদের দেশে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভবিষ্যৎ কেমন বলে, আপনি মনে করেন?
আমি মনে করি, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে। বিশেষ করে ঢাকাকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। এখন ধীরে ধীরে লোকাল ছোট–বড় সব ধরনের বিজনেস অনলাইনে শিফট হচ্ছে। আগে যেখানে শুধু ফেসবুক পেজ থাকলেই চলত, এখন সেখানে ওয়েবসাইট, ই-কমার্স, লিড জেনারেশন, ব্র্যান্ডিং ও পারফরম্যান্স মার্কেটিং। সবকিছুর চাহিদা তৈরি হয়েছে।
ঢাকায় প্রতিদিন নতুন নতুন স্টার্টআপ, ই-কমার্স ব্র্যান্ড, সার্ভিস-বেইজড বিজনেস ও SaaS প্রোডাক্ট গড়ে উঠছে। এসব বিজনেসের সবারই একটাই কমন চাহিদা। স্কিলড ডিজিটাল মার্কেটার, যারা শুধু পোস্ট বা অ্যাড চালানোই জানে না, বরং রেজাল্ট ও গ্রোথ নিয়ে কাজ করতে পারে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এখন আর ডিজিটাল মার্কেটিং শুধু বড় কোম্পানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। লোকাল শপ, রেস্টুরেন্ট, রিয়েল এস্টেট, কোচিং সেন্টার, ডাক্তার চেম্বার, সবাই অনলাইনে কাস্টমার আনতে চাচ্ছে। এর ফলে আগামী কয়েক বছরে দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটারের চাহিদা আরও দ্রুত বাড়বে।
আপনি ব্যর্থতা থেকে শেখার একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন?
বন্ধুদের সাথে বিজনেস করতে গিয়ে আমি বুঝেছি, এতে অনেক সময় বন্ধুত্ব আর ব্যবসা—দুটোই নষ্ট হয়ে যায়। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমি দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখেছি—
- বন্ধুদের সাথে ট্রানজ্যাকশনাল সম্পর্কে না যাওয়াই ভালো, কারণ এতে সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
- নিজের স্কিল সেটের বাইরে গিয়ে ব্যবসায় নামা ঠিক না, আগে যেটাতে দক্ষতা আছে সেটাকে শক্ত করা জরুরি।
এই ব্যর্থতাই আমাকে বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা দিয়েছে।
যদি WordPress plugin গুলো মানুষ হতো, তাহলে আপনার plugin-এর চরিত্র কেমন হতো?


আমি খুবই low maintenance 😄
নিজে নিজেই auto-update নেই, বারবার খোঁজ নিতে হয় না।
একদম reliable—“চিন্তা করিস না, আমি আছি” টাইপের মানুষ।
আমি ফ্রি ভার্সনেই সব কাজ করে ফেলি,
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, আমার কোনো প্রিমিয়াম ভার্সনই নেই!
মানে, “paid হয়ে বদলে যাওয়ার” কোনো চান্স নাই 😂
সবচেয়ে অদ্ভুত মার্কেটিং আইডিয়া যা কাজ করেছে?
এই মুহূর্তে সেরকম কোনো নির্দিষ্ট অদ্ভুত মার্কেটিং আইডিয়া মাথায় আসছে না।
আপনি যদি ক্যারিয়ারের শুরুতে ফিরে যেতে পারতেন, কী শিখতেন আগে?
আমি যদি ক্যারিয়ারের শুরুতে ফিরে যেতে পারতাম, তাহলে সবার আগে কমিউনিকেশন স্কিল আর প্রেজেন্টেশন স্কিল শিখতাম।
কারণ শুধু টেকনিক্যাল স্কিল নয়, সফট স্কিলই আসলে ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে। নিজের কাজ ঠিকভাবে বোঝাতে পারা, আইডিয়া প্রেজেন্ট করতে পারা আর মানুষের সাথে কানেক্ট করতে পারাই লং রানে পার্থক্য গড়ে দেয়।
গালিব নোটস এর পাঠকদের জন্য কিছু বলুন!
কিছু শিখতে গেলে বা জীবনে কিছু অর্জন করতে গেলে অত্যন্ত স্কিলড হওয়ার চেয়ে কনসিসটেন্ট থাকা বেশি জরুরি। আপনি চাইলে দিনে মাত্র ১০ মিনিট সময় দিন, কিন্তু সেটা যেন প্রতিদিন নিয়ম করে দেন।
এই ছোট ছোট নিয়মিত প্রচেষ্টাই একসময় বড় পরিবর্তন এনে দেয়।
******************
Zaved Chowdhury ভাই এর সাক্ষাৎকারটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি চাইলে আইবস এর ইউআই ডিজাইনার ইশরাত জাহান বা স্কুল শিক্ষিকা সুমাইয়া ইসমাইল এর সাক্ষাৎকার গুলো দেখতে পারেন। আর সাক্ষাৎকার ক্যাটাগরির সকল পোস্ট দেখুন এখানে!
- সাক্ষাৎকার এর সিরিজে আমরা ফিচারড করেছি যারা ইউনিভার্সিটি থেকে চাকরি জীবনে প্রবেশ করেছেন। ফ্রেশ ব্লাড যারা রিসেন্ট ট্রেন্ড জানে, যারা আপডেটেড তথ্য জানে!
আপনি নিজে বা আপনার পরিচিত কারও সাক্ষাৎকার প্রকাশ করতে চাইলে, আমাকে নক করতে পারেন সোস্যাল মিডিয়াতে। মুল উদ্যেশ্য হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের কে ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে জানানো। তাদের কে ইন্ডাস্ট্রি এর ব্যাপারে সহায়তা করা।

