সিভি বা রেজুমে হচ্ছে কর্পোরেট হাউজ, জব ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকার প্রথম চাবি কাঠি। সিভিতে পাঁচটি কমন মিস্টেক বা ভুলের কারনে আমাদের দেশের গ্রাজুয়েটরা ভালো চাকরি ম্যানেজ করতে ব্যার্থ হয়।

আমরা ইন্টার্নশিপ এন্ড জবস ইন বাংলাদেশ গ্রুপের মাধ্যমে, দেশিও গ্রাজুয়েটদের ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত সহযোগীতা করে আসছি, যার মধ্য সিভি ইভালুয়েশন অন্যতম। তাই আমাদের খুব ভালো ধারনা হয়েছে সিভি নিয়ে।

আমাদের মধ্য অনেকে আছেন যারা অনেক ভালো স্কিল নিয়েও ভালো জব পায় না, সাধারন কিছু মিস্টেক এর জন্য। চলুন দেখে নেই পাঁচটি কমন মিস্টেক যার জন্য আপনি ড্রিম জবে ল্যান্ড করতে পারছেন না।

যেহেতু ফ্রেস অবস্থায় সিভি প্রায় একই রকম থাকে তাই আজকের এই মিস্টেক গুলো যে কারও জন্য প্রয়োজ্য। বলে রাখা ভালো যে, এই ব্লগটি কম্পিউটার সাইন্স কেন্দ্রিক হলেও, টিপস গুলো যে কোন ডিপার্টমেন্ট এর শিক্ষার্থীর জন্য এপ্লিকেবল।

সিভিতে যে পাঁচটি কমন মিস্টেক এ চাকরি পাচ্ছেন না

০১

প্রথম মেজর মিস্টেক হচ্ছে শুধু ইউনিভার্সিটির নাম উল্লেখ করা। এখানে কনফিউজ হওয়ার আগে বলে রাখি, অবশ্যই সিভিতে ইউনিভার্সিটির নাম দিতে হবে। তবে শুধু মাত্র ইউনিভার্সিটির নাম আর রেজাল্ট দিয়ে দিলে সেটা এইচআর ম্যানেজার কে খুব বেশি হেল্প করে না।

যদি আপনার ভার্সিটি ফেমাস হয় তাহলে হয়ত চিনতে পারে। অন্যথায় সম্ভব নয়। আর তাছাড়া একজন এইচআর ম্যানেজার কিন্তু সকল ভার্সিটি চিনেন না। আর যদি নতুন ভার্সিটি হয় তাহলে আরও চেনার কথা নয়।

এখন, এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া খুব সহজ। আপনার সিভি তে যে জবে আবেদন করছেন, সেটা রিলেটেড কি কি মেজর কোর্স করেছেন আর ইউনিভার্সিটি লাইফে ক্লাব করে থাকলে সেগুলা দিন। সম্পুর্ন ইউনিভার্সিটি লাইফে যদি কোন অর্গানাইজেশনে যুক্ত থাকেন বা জব রিলেটেড কিছু করেন সেটাও দিবেন।

শুধু সমস্যা নয়, সমাধান সহ সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে এই ভিডিওতে – গালিব নোটস

ফ্রেস গ্রাজুয়েট অবস্থায় জব রিলেটেড ছাড়াও, রিসপন্সিবিলিটি নিয়েছেন বা কন্ট্রিবিউট করেছেন সেগুলো দিতে ভুলবেন না। এবং সব ইনফর্মেশন বিস্তারিত বা খুব ছোট করে দিবেন না।

গুছিয়ে লিখলে সেটা এইচআর ম্যানেজার কে অনেক সহায়তা করবে। সামান্য এই কাজ করার ফলে আপনার সিভিটি অন্যদের থেকে স্ট্যান্ডার্ড হবে আর এটাই চাকরি পেতে সহায়তা করবে।

০২

দুই নাম্বার কমন মিস্টেক হচ্ছে প্রজেক্ট ডিটেইলস না থাকা। আমরা যখন সিভি স্ক্যান করি, অনেক সিভিতে দেখা যায় প্রজেক্ট এর কিছুই লেখা থাকে না। আবার অনেক সিভিতে প্রজেক্ট থাকলেও শুধু নাম থাকে।

প্রজেক্টের ডিটেইলস থাকে না বা লিংক থাকে না। এতে করে একজন এইচআর ম্যানেজার বুঝতে পারে বা যে সেই প্রজেক্ট এ আপনি কি করেছেন আর কি কি ফাংশন বা ফিচার্ড ডেভেলপ করেছিলেন। এবং অনেক সময় এ কারনে আপনার সিভি বাদ দিয়ে দেয়া হয়।

এই সমস্যা সমাধানে, যখন আপনি আপনার সিভিতে কোন প্রজেক্ট যুক্ত করবেন তখন প্রজেক্ট এর একটা স্মল ডেস্ক্রিপশন যুক্ত করে দিন। প্রজেক্ট গিটহাব বা অন্য কোথাও হোস্ট করে তার লাইভ লিংক সিভিতে যুক্ত করে দিন। তবে লিংক যুক্ত করার ক্ষেত্রে অবশ্যই লম্বা লিংক পরিহার করুন।

এই সামান্য পরিবর্তন করলে, যে কোন হায়ারিং ম্যানেজার এর জন্য আপনার পুর্বের কাজ বুঝা সহজ হবে। এবং কাজ রিলেটেড হলে, আপনাকে নিতে আগ্রহী হবে।

০৩

কম্পিউটার সাইন্স এর শিক্ষার্থীদের আরও একটি কমন মিস্টেক আমাদের চোখে পড়ে। ৩ নাম্বার এই মিস্টেক হচ্ছে, সকল সিভিতে মাইক্রফট ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট এবং উইন্ডোজ ৯৮/২০০০ এর ব্যাবহার।

দেখুন, আপনি যখন কম্পিউটার সাইন্স এর স্টুডেন্ট তখন ন্যাচারালি মাইক্রসফট এর সফটওয়্যার গুলতে এক্সপার্ট হওয়া উচিৎ। নরমালি বিভিন্ন উইন্ডোজ এর সাথে পরিচিত থাকা উচিৎ। আর সফটওয়্যার কোম্পানি গুলো কিন্তু জানতে চায় না যে, আপনি মাইক্রসফট ওয়ার্ড বা এক্সেল পারেন কি না।

জিরো টু হিরো হতে চাইলে, পড়তে হবে জিরো টু ওয়ান বই

উইন্ডোজ ৯৮/২০০০ এর ব্যাবহার অনেক আগেই শেষ। এখন মাইক্রসফট ২০০৭ এর সাপোর্ট বন্ধ করে দিয়েছে। আপনি যখন এগুলো সিভিতে যুক্ত করেন তখন সহজে বুঝা যায় আপনি কপি-পেস্ট করেছেন। এই স্কিল সিভিতে যুক্ত করাতে সেগুলো ভ্যালু তো যুক্ত করেই না, উলটা ন্যাগেটিভ ইম্প্রেশন তৈরি করে।

উল্লেখ্য, মাইক্রসফট ওয়ার্ড, পাওয়ার পয়েন্ট এবং এক্সেল এর ব্যাবহার কম্পিউটার সাইন্স এর শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা স্কিল না হলেও, অন্যান্য ডিপার্টমেন্ট এর শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপুর্ন স্কিল। বিশেষ করে কিছু কিছু চাকরিতে আলাদা ভাবে এক্সেল এর স্কিল চাওয়া হয়ে থাকে।

০৪

সিভি বানানোর সময়ে আরেকটি কমন মিস্টেক হচ্ছে বাজে ফর্মেটিং। সাধারনত আমরা সিনিয়র কারও সিভি নেই, নাম-ঠিকানা আপডেট করে নিজের সিভি বানিয়ে ফেলি। আর এখন অনেকে আছে ক্যারিয়ার পোর্টাল এর সিভি ফর্মেট ডাউনলোড করে সাবমিট করে থাকে।

এখানে সমস্যা যেটা হয়, ক্যারিয়ার পোর্টাল সিভি মেকার এ আপনি যদি কিছু তথ্য নাও দেন তবুও কিন্তু সিভি এক্সপোর্ট করতে পারেন। আবার এমন হতে পারে, সিনিয়র কারও এইচয়ার সিভি নিয়ে আপনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্য জমা দিচ্ছেন।

হতে পারে, একজন সিএসই এর সিভি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যাবহার করছেন। এভাবে অন্য ক্যাটাগরির সিভি ব্যাবহারে স্বাভাবিক ভাবেই ফিট করছে না। আপনার প্রজেক্ট গুলো সাজাতে সমস্যা হচ্ছে বা আপনার প্রয়োজনীয় গিটহাব প্রফাইল দেয়ার যায়গা পাচ্ছেন না। এটা সিএসই এর জন্য হলেও, অন্য ডিপার্টমেন্ট এর জন্য একই সমস্যা হতে পারে।

আন্ডার গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ স্কলারশিপ -বিমান খরচ সহ

প্রত্যক ক্যাটাগরির জন্য সিভির ফর্মেটিং আলাদা। আপনি যখন বাজে ফর্মেট এর সিভি দিচ্ছেন, স্ক্যানিং এর সময়ে বাদ পরে যেতে পারেন। স্বপ্নের জব থেকে বঞ্চিত হতে পারেন শুধু এই সমস্যার জন্যই।

অনেকে ফর্মেট চান। যদি একটু কষ্ট করে গুগোল এ সার্চ করেন, তাহলে অনেক ফর্মেট পাবেন। আর যদি নাও পান, আপনার বেসিক তথ্য দিয়ে একটা আলাদা ফর্মেট বানিয়ে ফেলুন, সিম্পল।

যদি একান্তই সিনিয়র বা অন্য কারও সিভির ফর্মেট ব্যাবহার করেন, তাহলে এটা নিশ্চিত করবেন যেন সিভি দেখে কোন ভাবেই মনে না হয় যে সিভিটি বাজে ফর্মেটিং বা সিভিটি কপি করা হয়েছে। সিভি দেখে যেন প্রথম ইম্প্রেশন খুব ভালো হয়।

মনে রাখবেন, একজন এইচআর ম্যানেজার এর কাছে, প্রতিটা জবের জন্য অনেক গুলো জব এপ্লিকেশন আসে। যখন আপনি বাজে ফর্মেট এর কোন সিভি ড্রপ করেন বা চাকরির আবেদন এর সাথে সাবমিট করবেন, তখন কিন্তু আপনার জব পাবার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে।

০৫

এবারে বোনাস মিস্টেক এর কথা বলি। সিভিতে আমরা প্রায়ই দেখি এভিডেন্স এর অভাব। মানে আপনি যেই স্কিল যুক্ত করেছেন সেটার সাথে আপনার প্রজেক্ট গুলোর মিল নেই। বা সাথে কোন কাজ করেন নি। জিজ্ঞেস করলে বলতে পারেন না।

সিভিতে থাকে গার্ডেনিং খুব পছন্দের, বই পড়তে ভালো লাগে, ট্রাভেলিং পছন্দ। কিন্তু যখন জিজ্ঞেস করা হয় লাস্ট কোথায় ট্রাভেল করেছেন বা কি কি বই পড়েছেন? ক্যান্ডিডেট কোন উত্তর দিতে পারে না।

০০

আরেকটি বোনাস মিস্টেক হচ্ছে, ভুল কন্টাক্ট ডিটেইলস। এটা কিছুটা অবাক করা ব্যাপার হলেও সত্য এটাই যে, অনেকে সিভিতে ভুল কন্টাক্ট ডিটেইলস দিয়ে রাখেন। এমন ইমেল দেয়া থাকে যেখানে ইমেইল করলে এ জীবনে আর রিস্পন্স আসে না। আবার ফোন করলে চাকরি প্রার্থীর টিকিটিও খুজে পাওয়া যায় না।

সাইন্স ফিকশন ফর “বাবু খাইছো, বাবু খাইছো?”

এভাবে অনেক ক্যান্ডিডেট চাকরি থেকে বাদ পরে। এই সমস্যা থেকে সমাধানে আপনি অল্টার্নেটিভ ইমেইল এবং অল্টারনেটিভ ফোন নাম্বার যুক্ত করে দিতে পারেন। অল্টার্নেটিভ ফোন নাম্বার এর যায়গা  বাড়ীর নাম্বার দিন। আমরা সবাই নিজেদের নাম্বার চেঞ্জ করলেও বাড়ীর নাম্বার সাধারনত চেঞ্জ হয় না।

০০

সর্বশেষ বোনাস মিস্টেক হচ্ছে, বাজে প্রেজেন্টেশন। অনেক সিভি রয়েছে যেগুলোতে প্রচুর তথ্য থাকে। এবং এই তথ্য গুলো এত বেশি হিজিবিজি যে দেখতে বাজে দেখা যায়। অনেক সময় বুঝা যায় না। সিভি এমন হলে এইচআর ম্যানেজার রা সিভি দেখতে পছন্দ করে না।

আপনার সিভিতে উল্লেখিত সিভিতে পাঁচটি কমন মিস্টেক গুলো সমাধান করে ফেললে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। এর বাইরে যে কোন সমস্যাতে আমাদের ইন্টার্নশিপ এন্ড জবস ইন বিডি গ্রুপে জানাতে পারেন। এর বাইরে আমাদের পেইজ এ যোগাযোগ করতে পারেন।

0Shares
Asadullah

Asadullah

মোঃ আসাদুল্লাহ গালিব, পেশায় একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার এর শিক্ষার্থী আর নেশায় একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী। কম্পিউটার বিজ্ঞান এর অন্যতম ইমার্জিং এড়িয়া মেশিন লার্নিং, ড্ডিপ লার্নিং, বায়ো-ইনফরমেটিক্স নিয়ে কাজ করে থাকেন। এর বাইরে কম্পিউটার বিজ্ঞান, ক্যারিয়ার, ফ্রিল্যান্সিং এবং টেক উদ্যোগ নিয়ে লিখে থাকেন। তিনি নিজেও অনেক গুলো টেক ব্যাবসা এর সাথে সরাসরি জড়িত। গালিব নোটস মুলত ব্যাক্তিগত ব্লগ। বিল-গেটস এর ব্যাক্তিগত ওয়েব সাইট গেটস-নোটস এর নাম অনুসারে গালিব নোটস ব্লগের নাম-করন করা হয়েছে।

2 thoughts on “সিভিতে পাঁচটি কমন মিস্টেক এর কারনে চাকরি পাচ্ছেন না!

  1. Use h2/3 tags or different font size for the points. It was hard to read. Could not even find the 3rd point so i stopped reading.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close